সাইবার অপরাধ থেকে আপনার পরিবার কি সুরক্ষিত ?

একজন অভিভাবক তার সন্তানের চাহিদা একটি স্মার্টফোন, থ্রিজি সিম কিনে দিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন কিন্তু সঠিক ব্যবহার না জানার ফলে ও বিভিন্ন কারণে পরিস্থিতির শিকার হয়ে শিশু কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।  কৌতূহলের বশেও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। শিশু-কিশোরদের একটি অংশ প্রেম ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সক্রিয় থাকে। একপর্যায়ে তারা নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি, ভিডিও দেয়া-নেয়াও শুরু করে। কিন্তু এখানে ঘটে যায় বিপদ। নানাভাবে ওইসব ছবি বা ভিডিও চলে যায় সাইবার অপরাধীদের হাতে। তারা এটিকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে। আবার সম্পর্কের অবনতি ঘটলে সংশ্লিষ্ট ছেলে-মেয়েরাও নিজেদের দেয়া ছবি-ভিডিও ঘিরে ব্লাকমেইল করছে। হুমকি দিচ্ছে। ওই ছবি-ভিডিও ভাইরাল করছে। 

বিগত বছরগুলোতে আমরা এধরনের ২৫৭ টি সমস্যার সমাধান করেছি এর উল্লেখযোগ্য অংশই ছিল ১৬-২৫ বছরের মাঝে। এধরনের পরিস্থিতিতে অধিকাংশ অভিভাবক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করতে চান না। সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি হচ্ছে প্রযুক্তির সিঁড়ি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কিন্তু সচেতনতামুলক কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ছে ফলে এধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে প্রায় ৪০০ শিশু-কিশোর সাইবার অপরাধের শিকার হয়। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে পরিবারকে জানাতেও ভয় পায়। 

এক্ষেত্রে আপনার করনীয় কি?
আপনার রান্নাঘরের ধারালো ছুরিটি আপনার সন্তানকে ব্যবহার করতে দেবার পূর্বে আপনি যে পন্থাটি অবলম্বন করেন, ঠিক সেটিই আপনাকে এখানে করতে হবে। তাকে উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ স্মার্ট মোবাইল ফোন তুলে দেবার আগে তার সঠিক ব্যবহার আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাই আপনার সন্তানের সুরক্ষায় তাকে ইন্টারনেট ব্যবহারের নৈতিকতার শিক্ষা দিন, তার নিজের তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়ে অবগত করুন, বাসার কম্পিউটার উন্মুক্ত স্থানে বসান, ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়ছে কিনা তা লক্ষ্য করুন। বাস্তব এবং ভার্চুয়াল দুনিয়ার পার্থক্য তুলে ধরুন। আপনার সন্তান ইন্টারনেটে বসে কী করছে, কোন বিষয়ে সে আগ্রহী, অবৈধ সাইটে আসক্ত হয়ে পড়ছে কিনা-সেটি নিয়মিত নজরদারি করুন। 

একজন অভিভাবক যদি তার সন্তানের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় তবেই এই অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে। 

Related Blogs

Leave us a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.