শিশুর ভিডিও গেমে আসক্তি

প্রযুক্তি এখন মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। কম্পিউটার গেমস কে না ভালোবাসে৷ কিন্তু কারো কারো কাছে এটি এমন নেশার মতো হয়ে যায় যে, জীবনের বাকি সবকিছু অর্থহীন হয়ে পড়ে ৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর গেমসে আসক্তি৷ শিশু-কিশোররা এখন স্মার্টফোন আর অনলাইনভিত্তিক নানা গেম অতিরিক্ত সময় ধরে খেলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকেরাও সন্তানের এই বিষয়টি সম্পর্কে অনেকটা উদাসীনতা দেখান ফলশ্রুতিতে সন্তান এসব গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। 

শিশুর ভিডিও গেমে আসক্তির দায় কার?
শিশুর ভিডিও গেমে আসক্তির দায় অভিভাবকের। সন্তানকে শান্ত রাখতে ব্যস্ত অভিভাবকরা মুঠোফোনসহ নানা যন্ত্রপাতি তাদের হাতে তুলে দেন। তারা নিজেরাও মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকেন। নানা অজুহাতে তারা এমনটা করেন। অনেক সময় সন্তানকে টেলিভিশন ছেড়ে ভিডিও দেখিয়ে খাওয়ান অভিভাবকরা । ফলে সন্তান ধীরে ধীরে প্রযুক্তির  উপরেই আসক্ত হয়ে পড়ে। অভিভাবকরা তা বুঝতেই পারেন না। সেটি না করে তাকে সময় দিতে হবে এবং সেই সময়টা যেন সে উপভোগ করে সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে অভিভাবকদের।

উপসর্গগুলো কী?

  • ভিডিও গেম খেলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের অভাব (খেলার সময়কাল, ইচ্ছার তীব্রতা, এবং খেলার সংখ্যার বিচারে)।.
  • গেমিং-কে যখন আপনার সন্তান অন্য সব কাজের ওপরে রাখছে।
  • এর নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও যখন আপনার সন্তান ভিডিও গেম খেলা ছাড়তে পারছে না বা খেলার তীব্রতা বাড়াচ্ছে।

ভিডিও গেমের আসক্তি থেকে শিশুর কি ক্ষতি হতে পারে?

  • গেমে আসক্ত শিশুরা মানুষের সঙ্গে মিশতে শেখে না।
  • সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠে না।
  • দায়িত্ববোধ জন্মাবেনা।
  • শুধু পরিবার নয় পৃথিবী থেকে এই শিশুরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
  • কী ধরনের ভিডিও গেম খেলছে তার ওপর নির্ভর করে তার ভেতরে হিংস্রতা, অশ্লীলতা, অসামাজিকতা কিংবা স্বার্থপরতার বিকাশ ঘটতে পারে। যেমন ধরুন রেসিং গেমস খেলছে তাহলে তার মাঝে দ্রুত বাইক চালানোর প্রবণতা জন্মাবে, নিজেকে সে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেনা।
  • হরর গেমস আসক্তি জন্মালে সে হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।
  • এছারাও শিশুর মাঝে অশ্লীলতা, অসামাজিকতা কিংবা স্বার্থপরতার বিকাশ এই গেমসে আসক্তির মাধ্যমে ঘটতে পারে।

গেমসে আসক্তি হলে কি করবেন?

একমাত্র কার্যকারী পদ্ধতি হচ্ছে পরিবারকে সময় দেওয়া। কেউ যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়, তাকে সঙ্গ দিতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সময় দিয়ে গেম থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে পারেন। শিশুর বাহিরে খেলাধুলা ও বিনোদন নিশ্চিত করতে হবে।

Related Blogs

Leave us a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.