প্রযুক্তি ও সচেতনতার অনুপাত হওয়া উচিত ১ঃ২

বাংলাদেশে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে মাতামাতির কমতি নেই, প্রতিটি সেক্টরের পালেই লেগেছে ডিজিটাল হাওয়া তারই ধারাবাহিকতায় দেশে নতুন নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সকলের হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি পন্য। কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কতোটা সচেতন?

নতুন প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত হবার আগেই তার খারাপ দিকগুলো নিয়ন্ত্রনে আমাদের কতটুকু সক্ষমতা রয়েছে তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। আর আমরা যদি তা এড়িয়ে যাই তাহলে আগামীতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশকে এর চরম মুল্য দিতে হতে পারে। একটি নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের সাথে সাথেই কিভাবে সম্পৃক্ত হয়ে এগিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তার কমতি নেই, তা সম্পৃক্ত করেই যেনো সকলেই ক্ষান্ত হয়ে যাই। অথচ সচেতনতামুলক কার্যক্রমের অভাবে সেই প্রযুক্তিই আমাদের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধে। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম যেভাবে বাড়ছে এটি তারই কুফল। বাংলাদেশ পুলিশের Crime Data Management System: (CDMS) এর বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড সেটিই বলছে। 

আমরা প্রতিনিয়ত দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছি, ইন্টারনেটের গতির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অথচ একটু ভেবে দেখবেন কি?

আমাদের দেশের অধিকাংশ কম্পিউটারে লাইসেন্স বিহীন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার হচ্ছে। অধিকাংশ কম্পিউটারের/ ডিজিটাল ডিভাইসে সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যবহার হয়না বললেই চলে। ক্র্যাক সফটওয়ারের ছড়াছড়ি সর্বত্র এছাড়াও প্রযুক্তি পন্যে ম্যালওয়্যার ও ভাইরাস আছে জেনেও অনেকেই উদাসীন আচরন করেন এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের তথ্য সুরক্ষা আমরা কিভাবে নিশ্চিত করতে পারি সেই প্রশ্নটি আমি আপনার জন্যই রেখে দিলাম।

বিগত বছরগুলোতে আমরা ২৫৭ টি সাইবার ক্রাইম নিষ্পত্তি করেছি এবং সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টি হচ্ছে শিশু কিশোরদের মাধ্যে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের অভাবে তাদের মধ্যে ভয়ংকর সব অপরাধ্মুলক কার্যক্রম লক্ষ্য করেছি। আমরা রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য গতির সীমারেখা কেনো টেনে দেই, কারন তার প্রয়োজন আছে। এদেশের সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি পন্য ব্যবহার ও ডাটার নিরাপত্তায় সচেতনতা বৃদ্ধি করার সময় এখনি। একমাত্র সচেতনতামূলক কার্যক্রমই পারে অপরাধ্মুলক প্রবনতাকে হ্রাস করতে যা দক্ষ জনবল তৈরিতেও অনেক অবদান রাখবে। জনস্বার্থে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমাদের নতুন নতুন প্রযুক্তির সিঁড়ি অতিক্রম করার আগে অবশ্যই সচেতনতার ধাপগুলী গুরুত্বসহকারে নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই দেশে সাইবার ক্রাইম ও অপরাধ্মুলক প্রবনতা কমে যাবে।

“প্রযুক্তি ও সচেতনতার অনুপাত হওয়া উচিত ১ঃ২”

Related Blogs

Leave us a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.